Pulostyor Bidyalop



পুলস্তর বিদ্যালোপ।

সায়ন।


পূলস্ত আবার প্রেমে পড়িল। স্বভাবতই তার সাধনায় বাঁধা পড়িল। মোহময়ী চক্ষুদ্বয় সর্বদা তার চিত্ত চঞ্চল হইয়া উঠিতেছে।

সরস্বতী আবার আসিলেন, কহিলেন - পূলস্ত তোমায় যে বর আমি প্রদান করিয়াছি তাহা আজ হইতে বিফল হইবে। তোমায় সর্বপ্রকার শিল্পকলার সিদ্ধি আমি প্রদান করিয়াছিলাম তাহার একমাত্র শর্ত ছিল তুমি মদ্য ও নারী দুইয়ের নেশা হইতে বিরত থাকিবে।

শান্ত সরস্বতীর রূঢ় মূর্তি দেখিয়া পূলস্ত প্রবল উৎকণ্ঠায় কম্পিত হইতে লাগিল। সে ভাবিল একবার সরস্বতী তাকে ছাড়িয়া দিলে সে জগতের সমস্ত কিছু হারাইবে। শিল্পকলার সিদ্ধি হারাইলে সঙ্গীত ও শিল্প দ্বারা জগৎ মোহন করিবার ক্ষমতা বিলুপ্ত হইয়া যাইবে।

তীব্র ভয়ে পূলস্ত বলিল - মা, আমার নারী আসক্তি নাই, আমি যে প্রেমে পড়েছি। এতে সাধন সিদ্ধি নষ্ট হইবে কেন?

সরস্বতী কহিলেন - আমি যাহাকে সমস্ত শিল্পবিদ্যার সিদ্ধি দান করি, তাহার সহিত আমি বাস করি, তাহার আত্মায় আমার আসা যাওয়া নিত্য হইতে থাকে, আমি তাহাকে ভালোবাসি, আবার স্নেহ ও করি, আমি মাতৃ মূর্তি হইলেও আমি তাহাকে মনে প্রাণে চাই, তাই তার কাছে দ্বিতীয় কোন স্ত্রীলোকের ছায়া আমি সহ্য করতে পারিনা পূলস্ত।

দিন কাল অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে পূলস্তর সাধন সিদ্ধি লোপ পাইল। সরস্বতী সমস্ত লইয়া গেল। পূলস্ত জাগতিক ভোগ বাসনায় লিপ্ত হইয়া মহাজাগতিক ঐশ্বর্যকে হারাইয়া ফেলিল। সে বুঝিতে পারিল সাধনা অধ্যবসায় এর ফল নিস্ফল হয় যদি মহাশক্তির নিকট সম্পূর্ণ আত্মত্যাগ না থাকে।

বৎসর অতিক্রান্ত হওয়া মাত্র সে তার প্রেম হারাইয়া ফেলিল, একাকিত্ব তাকে এমন ভাবেই গ্রাস করিল তাহা হইতে মুক্তির পথ সে খুঁজিতে পারিল না।

বিশাল পর্বত চূড়ায় আরোহণ করে সে প্রাণপণ আকুতি লইয়া আরো একবার সরস্বতী কে ডেকে উঠিলেন। সে ডাক দূরের পর্বতে প্রতিফলিত হইয়া তাহার কানেই প্রতিধ্বনিত হইতে লাগিল। সরস্বতী আর ফিরলেন না।